Monday, October 27, 2014

সময়

মাতালের মত, পাগলের মত সে
দরজার পর দরজায় কড়া নাড়ছে।
তার দিগভ্রান্ত চোখে সব গুলিয়ে ফেলার ছায়া,
সেই আতঙ্ক দানা বাঁধছে তার চোখে মুখে।
এভাবে সময় হাঁটছে রাস্তা ধরে,
অন্ধ গলিতে শুধু চক্কর কাটছে
চল্লিশ বছর সে পেরিয়ে এসেছে হিসেবমত,
তবু চারপাশে সেই '৭০ই দেখতে পাচ্ছে।
দিশেহারা বিকেল, উদ্ভ্রান্ত রাত,
কারফিউতে ছুটে যাওয়া পুলিশের বুট-
সেই আওয়াজ সময় আবার শুনতে পাচ্ছে।
অন্ধকারে ছুটছে নারী,
পিছনে ছুটছে নির্লজ্জ পিশাচ,
জমে থাকা লাশে রক্তের গন্ধ,
খবরের কাগজে বারুদের উত্তাপ,
সবাই কেন হাঁটছে আবার,
সবাই কেন মিছিল হয়ে শহরের বুকে আছড়ে পড়ছে-
মধ্যরাতে দিগভ্রান্ত সময় তোমার আমার দরজায় কড়া নাড়ছে।

বাঁদিক থেকে ডানদিক হয়ে,
শহরের হৃদয়েও বাইপাস হয়ে গেছে-
'
বিপ্লব' থেকে 'জাতীয়তাবাদ' শব্দের ফেরে ভ্রান্ত সমাজ
আসলে সন্ত্রাসের ছদ্মনাম চিনতে শিখছে।
বাঁ হাতের নখ গলার শিরায়,
বসেছে যেমন তখন সময়ে,
ডান হাতের নখ এগিয়ে আসছে-
রক্তে গন্ধে হুমকি আসছে।
চল্লিশ বছর এদিক-ওদিক
সময়ের সব একই লাগছে-
সময়ের সব গুলিয়ে যাচ্ছে।



Composed by Sayan Chakraborty for KabboKotha

Description: https://ssl.gstatic.com/ui/v1/icons/mail/images/cleardot.gif

Sunday, October 26, 2014

অব্যক্ত


নরম সময়ে আলতো আবেগ
রোদ্দুর মাখা মায়া,
সব শেষে মেশে রাত্রির কাছে
রাত্রিকে একা পাওয়া,
সময় ঘড়িতে  ধরা দাওয়া থাক
আগুন নেভার রেশ,
মনে কি  পরে মাধবীলতা?
অনেক রঙের বেখেয়ালে এখনো অপেক্ষায়ে
তোর্ , অনিমেষ...

মাঝে মাঝে চোখা-চুখী
ছাদে ছাদে মুখো-মুখী
বেনামী হওয়াতে উড়ে আসে টুকরো টুকরো প্রেম- বৈরাগী  ;
উঁকি ঝুকি জলছবি, ভুলে যাওয়া হেমন্ত কবি
 কাছে আসা
সবুজ শৈশব ...

উড়ে যেত চিঠিগুলো- এলোমেলো বন্ধু যত
শুকনো গোলাপ বইয়ের ভাঁজে,
ভুলে-ভরা সারাটা দিন - কাঁচভাঙ্গা রোদেলা ঘুড়ি
হারানো সুরে---
 হঠাত রবিবার!  

বাড়ি বদলে অন্য পাড়া
হারানো সুরে বদলে যাওয়া
কঠিন-কোমল গল্প বলা,না হয় ছিল ;
আজ তোলা থাক
কবিতা খাতায়ে....

আর গোবেচারা বখাটে গন্ধ,
বিষম খেয়ে অবিরত
নিয়ম করে বন্ধ থাকে, উদাসী শহরতলীর ছায়া
এসে পড়ে আবেশে-ঔদ্ধ্যত্তে
কাপুরুষ স্মৃতি বন্ধ থাকুক ,
আগাছা  ঘরে!
নিস্তবদ্ধতা আঁছড়ে ধরা দুঃসময়ে,
কম্পিত হয়

silent mode !   


Composed by Aparajita Das for Jhaalmuri Kabbo Kotha

Saturday, October 25, 2014

কাব্য কথা

মন থেকে সব মুছে ফেলেছি গাঙ্গুরের যত ঢেউ
অবশিষ্ট একাগ্রতায় বেঁচে নেই কেউ।
কত বনলতা এল গেল সেই চেনা নাটোরের বুকে,
দারূচিনি দ্বীপ জ্বলে পুড়ে গেছে আধিনিকতার সুখে।
বিদিশা নগরী আলো জ্বেলেছে, রাজকন্যা নেই,
রূপসী বাংলা মরীচিকা হয়ে পলাতকা অচিরেই।
পাণ্ডুলিপির পাতা দিয়ে কত নৌকা গড়েছি জলে;
আবেগের বাণী সলিল সমাধি অজ্ঞানতার ভুলে;
আগামীর পথে ধুলো জমে গেছে শঙ্খচিলের ভয়ে,
শালিকের মত প্রাণ নিয়ে সব চলেছে বিশ্বজয়ে - 


Composed by Nirmal Sarkar for Jhaalmuri KabboKotha

পৃথিবীর শেষ ষ্টেশন

একটা কাঠের বাড়ি
বাড়িটার চারদিকে তখন সাজ সাজ রব
পৃথিবীতে নতুন অতিথি এসেছে আজ
উলুদ্বনি, মিষ্টিমুখ আনন্দের ঝরনায় বর্ষিত হয়ে-
ছোট শিশু বড় হচ্ছে।
অভিভাবক চান খোকা, তাদের হাতের গণ্ডির মধ্যে বেঁধে থেকে 
শাসন করুক গণ্ডির বাইরের বিশ্বকে।

একদিন সুবোধ খোকা জানতে চায়,
পৃথিবীর শেষ ষ্টেশন কি?
সকালের চা আর খবরের কগজের মধ্যে
গোটা বিশ্বকে হাতড়ে বেড়ানোর চেষ্টায় মশগুল
অভিভাবক সামনের প্রাসাদ বাড়িটার দিকে
আঙুল তুলে চিহ্নিত করলেন, হয়ত বা তাছিল্য ভরে।

রোজ সূর্য দিন আনে আর ছোট শিশু তারা গোনে
ইচ্ছে থাকলেও যাকে সুযোগ নেই ছোঁয়ার
তবু মনে অদম্য ইচ্ছা পৃথিবীর শেষ ষ্টেশন দেখবার
অঙ্কের খাতায় পেন্সিল দিয়ে ইট গেঁথে
তৈরি হয় এক একটা বাড়ি
আর মোছে, শুধু ধুলো গুলি এক কোনে জমা হয়।

একদিন সূর্য এমন একটা দিন নিয়ে এল
যেদিন খোকার নাম আর শুধু নাম নেই
একটা নেমপ্লেট হয়ে বড় বাড়ির সামনে ঝুলছে।
সে বাড়ি থেকে তারারা খুব কাছে, কিন্তু
তারার আলো থেকে খোকা খুব দূরে
নরম বিছানায় শুয়েও সে আর স্বপ্ন দেখেনা
কারন আরও স্বপ্নের যোগান নেই তার
এয়ার কন্ডিশনড ঘরে বসে মনে হয়
অক্সিজেন মাস্ক পড়ে ছুটছে সে কাঠের ঘরটাতে,
হাওয়া চাই তার।

একদিন যে খোকা ছিল, সে অভিভাবক হলেন
তার কাছেও প্রশ্ন আসে পৃথিবীর শেষ ষ্টেশন কোনটি?
মাস্ক খুলে দীর্ঘ নিশ্বাসের ধোঁওয়া উড়িয়ে বলে,
একটা খোলা মাঠ, যেখানে যাওয়া আসা অবাধ ভাবে চলে। 

composed by Rajib Chowdhury for Jhaalmuri Kabbo Kotha

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...