Wednesday, March 12, 2014

ক্লান্তি



জমে থাকা অবসাদ দীর্ঘশ্বাস য়ে মিশে যায় ধোয়ায়, কুয়াশায়
গোপোন চোখের জলে রোজ রোজ বালিশ ভিজে যায়...

দিনের পর দিন পায় না জল বারান্দার মানিপ্ল্যান্ট পাতাগুলো
শুধু স্তরে স্তরে জমতে থাকে অবহেলার রাশ রাশ ধূলো...

বৃষ্টির ক্লান্ত জল কাঁচের দেওয়াল বেয়ে বেয়ে
অলস পথে নীচে নেমে যায় লক্ষ্যহীন য়ে...

টিকটিক ঘড়ির কাঁটা ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যায়
অভিমান গুমোট বেঁধে নিরাকার পাথর হয়ে যায়...

বইএর পাতার ভাজে রাখা পাপড়ি কখন রঙ হারায়
প্রতিশ্রুতি রাখার প্রতিশ্রুতিও কখন মিথ্যে হয়ে যায়...

হাসি আনন্দের দায়ভার আর হয়না নেওয়া
সুখ-স্মৃতির ক্রমে ক্রমে ঝাপসা হয়ে যাওয়া...

নিজেকে সময় দেবার সময়টাই কখন যায় হারিয়ে
শেষ সম্বল সূর্য ডুবে গেলে আধার ঘরে শুধু একলা দাঁড়িয়ে...

Composed by Sreyasi Munshi

Saturday, March 8, 2014

The Leading Ladies in the Epics



Ramayana and Mahabharata has been retold innumerous amount of time in a multitude of languages. I have recently come across the two latest takes on the epics. One is Sita(Retelling of the Ramayana) by Debdutt Pattanaik and another one the Palace of Illusions by Chitra Divakaruni Banerjee. Both of the books have been written from the viewpoint of their leading ladies.

The great Indian epics Ramayana and Mahabharata  have had women in a very crucial role as Sita and Draupadi.Two great wars have been staged to protect the dignity and protest against the injustice done to the two primary characters in the Epics.

In Pattanaik's retelling, it tells Sita's story. Pattanaik tells the tale of Sita in a lucid way and associates each story with fantastic illustrations.

Sita An Illustrated Retelling of the RamayanaThe mystery behind Her birth: King Janaka had found a baby while ploughing a field. This abandoned child was adopted by the King and christened as Sita. Her growing up: She had knowledge of the scriptures and also the art of cooking. She was held with high esteem in her kingdom. Her Syayambar: It was destined that the greatest man on earth (God reincarnate) would be the perfect suitor for Sita. Ram had to string the massive bow of Parashurama to prove his worth and win Sita. Her exile: Sita decided to abandon the luxuries of a kingdom and follow her husband's path to 14 year long exile. Her days of exile with her beloved ended when she spotted the golden deer and pined for it. It led to her subsequent abduction to a faraway land. Her stay in Panchabati: She landed up in the beautiful garden of Ravana as a captive. Her days were spent saving herself from the evil intents of Ravana while awaiting the arrival of the husband. Her rescue: Finally the war is fought and God reincarnate saves her from the evil clutches. The scar on her: She is rescued from the captivity only to be tied up again by the evil clutches of norms of the society. She is asked to prove her sanctity and she comes out clean through the fire. The final freedom: But it is not the end to her days of trauma. Time and again society rejects her and Ram bound by culture asks her to prove her purity. Unable the bear the embarrassment she asks the earth to split and take her within. She attains her final freedom.


The Palace of Illusions is a book of another flavour. It is the story of Panchali, the story of her that she has to tell. Chitra Divakaruni has described Panchali's mind in such a beautiful way that we can relate to it. She is not a queen of the epic but a woman who shares her joys, sorrows and life with us. 
The Palace of Illusions

The Birth: Panchali springs to life from the ceremonial fire of King Drupad along with her brother Dristadummya. The growing up years: Draupadi is her father's darling and she is brought up in seclusion with great care. She too has mastery over the scriptures and the art of cooking and gains the world wisdom. Krishna the God reincarnate is her friend philosopher and guide in this journey. She is bestowed with a boon (or a curse) to bring about a great event in history. The marriage: She gets Arjuna the greatest archer as her husband through a syayambar but fate had something else for her. So on Kunti's behest she becomes a wife shared by five husbands. Her household: Panchali was married to the Pandavas when they were staying in disguise as poor brahmana. She accepted a life bereft of all finery. The relationship between Kunti and Draupadi is described by Divakaruni in a very interesting way. Later Panchali becomes the queen of the splendid kingdom of Indraprastha. The shame: She becomes a wager in a game of dice. The whole universe becomes witness to the humiliation of Panchaali in the Kaurava court. This insult to womanhood ignites the pyre of the great war. Panchaali unties her hair and vows to tie them bathed with the Kaurava blood. The win and the loss: The Pandavas win the great war, but Panchali loses her sons and the special one in her life - the one she was secretly in love with, Karna. The final journey: Panchali follows her husband and embarks on a journey to the final abode. The last walk of Draupadi is described very beautifully in this book.

These were the stories of the two leading ladies of the great indian epics from the following books.

https://www.goodreads.com/book/show/18514068-sita-an-illustrated-retelling-of-the-ramayana
http://www.goodreads.com/book/show/1774836.The_Palace_of_Illusions



Tuesday, January 21, 2014

ভ্রান্তি

লুব্ধ মানব মুগ্ধ হইয়া
ছুটে যায় পিছু পিছু
মরীচিকা ও যে মায়াময় সে যে
বুঝেও বোঝে না কিছু
যত চাওয়া যায়, বেড়ে যায় কেন
ততই চাওয়ার আশা
যত দেখা যায়, বেড়ে যায় রূপ
মেটে না যে তিয়াষা
সে যে পাগলিনী রূপে উন্মাদে
কুলুকিনী তার তৃষা
মায়াবিনী সেজে সাথে নিয়ে আসে
ভঙ্গুর ভালবাসা
ওরে ফিরে আয় মন, ক্ষুদিত পরান
বহ্নির দ্বারে দিস নাকো হানা
মোহরূপ মায়া গ্রাসিবে যে তোরে
করিবে না কেউ মানা

Composed by Urmita Ghosh

আদালত ও একটি রায়

A Story by Rajib Chowdhury

                        (১)
আমি সমীর।সদ্য কলেজ পাশ আউট।ব্যাচের বাকিদের মত আমিও একটা চাকরীর খোজে।বাবার টাকার জোগানটা এখনও অঢেল বলে আমার চিন্তাটা অবশ্য অনেক কম।সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বেরিয়ে পড়ি।ব্যস সারাদিন ঘুরে বেড়াই। কোনদিন কোনো পার্ক, কোনোদিন জেলখানার সামনে বা কোনদিন হয়ত শিয়ালদা বা হাওড়া স্টেশনে বসে দিন কাটিয়ে দেই।শহর গ্রামে শিলান্যাশ যতটা হয়েছে সেই হারে বেকারত্ব যদি নাশ হতো তাহলে আমার মত ছেলেদের দুপুরে অন্তত এভাবে রাস্তা ঘাটে ফ্যাল ফ্যাল নয়নে জনগননা করতে হতনা।তবুও এইভাবে বসে থেকে কলকাতা আর তথাকথিত গজিয়ে ওঠা কলকাতার লোকজনের কর্মকাণ্ড আর জীবনের ফেরারী কা সওয়ারী হওয়াটাও খুব খারাপ লাগেনা আমার। আজ আমার গন্তব্য দায়রা আদালত।কোরটের রুমে বসে বিভিন্ন চরিত্রের মেলবন্ধনে যে অদ্ভত রিয়েলিটি শো হয় তার সঙ্গে কারো তুলোনা চলেনা।

কোর্ট রুমে ঢুকে প্রথমে কেসটার একটা সামারী নিয়ে নেওয়টা খুব দরকার।গভিরহাট মহকুমার একটা প্রত্যন্ত গ্রাম কামধেনু।চাষী অধ্যুষিত গ্রাম।শিক্ষা এখানে মিড ডে মিলের প্লেটে বিক্রি হয়। সাক্ষরতা এয়ারকন্ডিশ্ন ঘরের বুজে যাওয়া ঘুলঘুলির মধ্যে আটকে পরা বাতাস। এই গ্রামেই ঘটে যাওয়া এক অপরাধের শুনানি আজ।গ্রামের চাষী রফিক মণ্ডলের কিশোরী কন্যাসমার শ্লীলতাহানী ও আত্যহত্যায় প্ররোচনা।

জজ সাহেবকে দেখে বেশ ভালই লাগল।বেশ গোলগাল তরমুজের মত চেহারা।চশমাটাকে নাকের কাছে নামিয়ে ফাইলগুলো নেড়ে চেড়ে দেখছেন।সরকার পক্ষের উকিল আসামির বিপক্ষে দফা ৩০১,৩৭৬,৩৭৫,৩৮৫ ধারায় মামলা দায়ের করার অনুমতি চাইলেন।এই উকিল রা কিকরে ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের এই সংখ্যা মনে রাখেন তা সত্যি খুব আসছরযের।এই প্রযন্ম না হলে ভুলে গেলে স্মার্ট ফোনে সার্চ মারতে পারে কিন্তু এই পঞ্চাশ পার করা উকিল যে কি করে  এত দিন সামলালেন তা বিস্ময়কর।উকিল বাবুর এই দাবী শুনে বাকি লোকজন অবাক নয়নে একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করে দিল।সামনে বসা পুলিশ কন্সটেব্ল তার বাবু ক ফিস ফিস করে বলল  স্যার এই সেকশন গুলোও পাবলিক কে বিলিয়ে দিলেন স্যার।

জজসাহেব সরকার পক্ষের উকিলবাবুকে কাল ভোরে ঘটে যাওয়া ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করতে বললেন।উকিল বাবু ইংরেজি আর বাংলার মিক্স পাঞ্চে উকিলসুলভ ভাষায় যা বললেন তার সারমর্ম তা প্রায় এরকম যে সেদিন কাকভোরে আসামী কমলার ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানী করে এবং কমলা অপমানে দড়িতে আত্মহত্যা করে।কিন্তু আসামীকে জেরা করবার কোন উপায় নেই কারন তার জনসমক্ষে উপস্থিতি সাধারনের বিপদ নিয়ে আসতে পারে এবং আসামি জনরোষের সম্মুখিন হতে পারেন। তাই উকিল বাবু কোণ প্রত্ত্যক্ষ্যদড়শিকে জেরা করার অনুমতি চাইলেন। ভারতবর্ষে দোষীদের নিরাপত্তায় যা খরচ হয় তা যদি সাধারন মানুষের জন্য হতো তাহলে অন্তত কিছু লোকের কে এফ সি চিকেনের ঢেকুড় তুলে অফিস কামাই করে মোমবাতি নিয়ে আন্দোলন করতে হতনা ।

রফিক মন্ডল কাঠ গড়ায় এসে মিথ্যে না বলার প্রতিশ্রুতি দিল যদিও তার বোঝার শক্তি ছিলনা বই টিকে ছোয়ালে যদি সত্য বিনা মিথ্যা না বলার অদ্ভুত ক্ষমতা সঞ্চার হ্য তাহলে আসামীদের সোজাসুজি এই কাজটা করালেই ল্যাটা চুকে যায়।

যখন ঘটনটা ঘটেছিল তখন কমলার কাছে কে ছিল- উকিল বাবু প্রশ্ন করেন ।
ওর দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা আসে বাবু।তারাই রা পারতাসিলো  রফিক গলার গামছাতে ঘাম মুছতে মুছতে জবাব দেয়।
-যখন কমলার ওপর হামলা হয়েছিল কোণ চিৎকার শুনেছিস তুই?
-হা বাবু।শুনসি।হে তো সন্ধ্যা হইলেই কমলা ডাহে।তা বুঝবন ক্যামনে কেল্লেইগ্যা ডাক পারসে।
-তা তুই বুঝলি কি করে কমলার রেপ হয়েছে?- রেপ কথাটা এখন এত চলিত হয়ে গেছে যে নিরক্ষর রফিকদের ও আর বোঝাতে হয়না এর মানে।
-ওসব অত জানিনে বাবু।বেটির বুহের কাসে হারামজাদা দাত বসাইয়া গেসে,মা মা চিতকারে ছটফট করতে করতে মরতি দেখলাম । দরজা দিয়া ফালাইতে দেখলাম মরদাডারে। এহন এইডারে আপনি যা কইবেন কন। হ্যেরে কে ফিরাইব।

জজসাহেব আসামি পক্ষের কোন উকিল নিযুক্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলেন।তা না হয়ায় অবিলম্বে তা নিয়োগ করে পরের দিন আবার শুনানির দিন ধার্য করলেন।
  
                                        (২)


আসামি পক্ষের উকিল নিযুক্ত হওয়ার পর আবার কাজ শুরু হল।আসামি পক্ষের উকিল আবার রফিক মন্ডলকে জেরা করবার অনুমতি চাইলেন। পুলিস ইতিমধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।কমলার বুকে আসামির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রফিক আমি আবার তোর কাছে জানতে চাই যে কমলা যে রেপ হয়েছে তা তুই বুঝলি কি করে?  উকিল বাবু কাঠ গড়ার ওপারে কোণ শ্রেনীর লোক দাড়িয়ে আছে তা বুঝে নিয়ে গলার স্বর ওপরে তুলে নিলেন।
-          বাবু আধখামচা শরীর নিয়া কাতরাইতে কাতরাইতে মিইস্যা গেল।
-          তাতে কি প্রমান হয়ে যায়?
-          কমলার কটা বাচ্চা?
-          দুইট্যা বাবু।
-          কমলার চরিত্র আগে থেকেই যে বাইরের মুখো তা আদালত কে গোপন করা হয়েছিল।স্যার আমি আদালত কে একটি বিষয়ে অবগত করতে চাই যে রফিক মন্ডল কমলাকে তার রোজগারের এক অঙ্গ বানিয়ে নিয়েছিল।কমলার বাচ্ছার কোনো রেকর্ড নেই।এর আগেও রফিক টাকার লোভে কমলা দু মাসের দুটো বাচ্চাকে বিক্রি করেছে।
-          জজ সাহেব এই বিষয়ের সত্যতা জানতে চান।
-          রফিক কাচুমাচু শরীরে বলল  জী হুজুর।কোনো উপায় তো আসিল না।আগেরবার সব ধান খরায় শুকায়া গেল।কোনো টাকাই উথলনা। এ বছর ফলন ভালই হইসিল।শহরের গোদামে নিয়া গেলাম।বাবু কইলেন অতি ফলন।দাম পামুনা ভাল।মহাজনের টাকা মেটাইতে আর উপায় আসিল না।
-          এটাকি সত্যি তুমি কমলাকে নিয়ে অন্য চাষীদের বাড়ি যেতে আর কমলাকে নোংরা কাজকরমে ব্যবহার করতে।
-          হ্যাতে অন্যায় কি বাবু। যা করলে দুইটা লোকের পেট ভরব তা করলে দোষ কি বাবু।
-          স্যার আমার মনে হয় এটাই যথেষ্ট যাতে প্রমানিত হয় যে কমলা অতিশয় দুশ্চরিত্রা ছিল। সে তার দেহ কে বাইরের সমাজের কাছে ব্যাবহার করেছে।আসামী নাবালক হওয়ায় মুহূর্তের প্রলোভনতায় অন্যায় করে ফেলেছে।

এক নতুন মোড় নিয়ে আসলেন আসামী পক্ষের উকিল।জজ সাহেব আসামির বয়সের রিপোর্ট জানতে চাইলেন।পুলিশ রিপোর্টএ জানা গেল স্থানীয় কোনো যায়গায় বয়স নির্ধারণ করা যায়নি কারন তেমন কোন পরিকাঠামো নেই এই অঞ্চলে।

কেসটা বেশ জটিল ও মজাদার হয়ে উঠছে।এত্ত বড় দেশ।৬০ কোটি লোক নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করে।সেখানে একটা জানা অপরাধকে শাস্তি দিতে বিচারব্যবস্থার আঙ্গুল কাপছে।একটা সাবালক অপরাধ যদি নাবালক করে তাহলে তার দোষ কে মার্জনা করা যায় অনায়াসে।পুলিশ রিপোর্ট থেকে জানা গেল যে আসামির বয়স নির্ধারণ করা যায়নি।তবে তার জিন বিন্যাস থেকে যতটুকু বোঝা গেছে যে যৌবনকালে অবতীর্ণ হলে সে সাড়ে ৫  ৬ ফুট লম্বাই হত।কিন্তু বর্তমানে সে তার থেকে ৫ ইঞ্চি কম আছে। এর থেকে তার কৈশোরকালের অস্থিরমস্তিস্ককে প্রমান করা যেতেই পারে।উকিল বাবুর হোম ওয়ার্ক সরকার পক্ষের উকিলের থেকে বেশ ভাল মনে হছে।

জজসাহেব রায় শোনানোর আগে একটা বিরতি চেয়ে নিলেন।আমিও সওয়াল জবাবের মাঝে বুদ্ধির গোড়ায় ধোয়া দেওয়ার সুযোগ পেলাম।চা আর ধোয়ার অদ্ভুত সমন্বয় সঙ্গে বাঙ্গালির আর্থ সামাজিক চিন্তা যে কে কিভাবে শুরু হয়েছিল তা কোনও উইকিপিডিয়াও খোজ করতে পারেনি।
 চা খেতে খেতেই ভাবছিলাম কামধেনু কান্ডের কথা।একটা মেয়ে গ্রামে রেপড হল।গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল।যে এত বড় অন্যায় করল সে নাবালক। তার বয়স তার অন্যায়কে লঘু করে দেয় আর রফিক মন্ডলের দারিদ্র কমলা কে বানিয়ে দেয় দুসচরিত্রা।আমাদের  সমাজ আর আইন কাকে দোষী করবে?মায়ের থেকে মাতৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধ বেশি না ক্ষিদের তাড়নায় জীবন থেকে শ্বাস কেড়ে নেওয়া বেশি দণ্ডনীয়। নানা চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিল হঠাৎ খেয়াল করলাম যে আদালতের শুনানির সময় হয়ে এসেছে।তড়িঘরি করে দৌড় লাগালাম আদালতে।

জজসাহেব মুখে সুপারীর দানা ভরে সব কাগজ নিরীক্ষনে ব্যস্ত।রফিক মন্ডলের ছখে মুখে হতাশা।আমরাও অধীর আগ্রহে বসে আছি তথাকথিত ভার্ডিক্টের জন্য।অবশেসে মুখ খুললেন তিনি।

সব সাক্ষ্য আর রিপোর্ট অনুসারে এই কেসটা আমাদের কাছে খুব ই লজ্জার।কমলার এই দুঃখজনক মৃত্যুয় অভিযুক্ত পরোক্ষ ভাবে জড়িত।আসামির বয়স্ কে বিবেচনা করে এই সিধান্তে উপনীত হয়েছি যে যাবজ্জীবন বা মৃত্যু আদেশের মত কঠিন শাস্তি তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে এবং আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে বিনষ্ট করতে পারে।তাই সব দিক বিবেচনা পূর্বক আমি রফিক মন্ডলের পোষ্যা গাভীর জন্য ১০০০০ টাঁকা ক্ষতিপূরণ এর নির্দেশ দিলাম।আর গোয়ালঘরে অবৈধ অনপ্রবেশের জন্য সাপ টিকে ৩ মাসের জন্য গভিরহাট মহকুমার বনসমপদ বিভাগের হাতে তুলে দেবার নির্দেশ দিলাম।


আদালত ভেঙ্গে গেছে।ফেরার বাসের টাইম টা জানতে হবে।আবার দৌড় লাগালাম নিজের মনেই হাসতে হাঁসতে।

Tuesday, January 7, 2014

Sesh Paate Kheer

Sesh pate misti na hole bangalir chole na.Ruti ba luchi or porota
khawar por monta kemon misti misti kore.Rosogollar bhar ta bar
kore dekhte giye dekhiii ei jaaahhh..matro 2 to acche je,
rate sobar pate debo ki?
Baritei toiri kore nilam Misti :-)
khub sohoj ekta kheer receipe JHALMURI bondhuder jonnyo :-)

Ingredients:
250 ml Milk
Sugar 2 Tbspoon
Whole Cardamom(2 pcs)
Nalen Gur(if available)
Pista,Kishmish,Cashew to garnish.

Method 
Step 1: Take the whole milk in a deep pan and start
boiling in a low flame.Stir continuously.
Step 2: add sugar(or Nalen Gur), cardamom and stir continuously
untill the milk reduces to 1/4 in quantity.
Step 3: Remove from oven and set it to cool.
Step 4: Garnish with Pista Kishmish and Cashew nuts.

Bashhhhh r kono chinta nei....Mistir problem sesh..

Jodi tumi Bibahito Mohila hao: Tumio kush...sasurbario luchi kheer kheye
boumar prosongshay ponchomukh.R Bor...se
kotha ta na hoy public place e thak ;-

J Bibahito Purush: Misti Mukh joy korte er juri nei.

Obibahito Purush/Mohila: GF BF ke impress
korar bhaloi ekta point.


Chef : Moumita Ghosh Ball

Thursday, December 19, 2013

Tajpur - The pristine beach

রোজের একঘেয়ে কাজের বেড়াজাল টোপকে খোলা আকাশের নীচে মুক্তির শ্বাস নেবো ঠিক করলাম  ঝট কোরে নেওয়া সিদ্ধান্ত। তাই ছোট্ট ছুটির ফাঁকে মানে সপ্তাহান্তের ছুটিতেই আমাদের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিলাম তাজপুরকে।বাঙলার ভ্রমণ  মানচিত্রে তুলনামূলক নতুন দিশা ।                                                              
দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের তদারকিতেই, তাজপুর , শীতের ছুটির পর্যটকদের জন্য সেজে উঠছে ।দিঘা যাওয়ার মূল রাস্তায় বালিসাই মোড় থেকে তাজপুরের  রাস্তা বেঁকে গেছে ।দুইধারে মাছের ভেড়ীর মাঝে উঁচু বাঁধের ওপর সদ্য পিচ ঢালা মসৃণ একটাই রাস্তা চলে গেছে এঁকে বেঁকে তাজপুরের অন্দরে;শেষ হয়েছে সমুদ্রের ধারে মোহনার কাছে 


তাজপুরের প্রায় সমস্ত হোটেল ,রিসোর্ট  এই রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছে ।আমরা বেছে নিলাম নিউ সোনার বাংলা রিসোর্টটিকে।রিসোর্টটির প্রধান আকর্ষণ সামনেই বিস্তৃত ঝাউবন।এই ঝাউবনের মধ্যে দিয়ে দশ মিনিট হাঁটলেই তাজপুরের সৈকত ।আমরা রিসোর্টে চেক-ইন করেই দৌড়লাম সমুদ্র-স্নান উপভোগ করার উদ্দেশ্যে।মাঝপথে ঝাউবনের নিস্তব্ধ সৌন্দর্য ক্যামেরা বন্দি করলাম।তখনও জানিনা সৈকতে আমাদের জন্য দুটো চমক অপেক্ষা কড়ছে।  প্রথম চমক সৈকতে আমরা সাতটি মানুষ ছাড়া আর একটিও মানুষ নেই।তবে যারা আছে তাদের দেখেই দ্বিতীয় চমকটা লাগলো। সৈকত ভরে আছে ছোটবড় লাল কাঁকড়ায়।কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতটি মানুষ ও সহস্র লাল কাঁকড়ার মধ্যে শুরু হল লুকোচুরি খেলা।মিনিট পাঁচেক পর হতাশ মানুষের দল নিমগ্ন হল সমুদ্র স্নানে।


দলের কনিষ্ঠতম সদস্য টিনটিনের প্রথম সমুদ্রস্নান,তাই সমুদ্রের নোনাজলের ঢেউ প্রাথমিকভাবে ভ্যাবাচ্যাকা বানালেও আনন্দ লাভে দেরি হয়না। দেড় ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন ভাবে ঢেউয়ের সাথে লড়াই,খেলা,হুটোপুটি করে রিসোর্টে ফেরার উদ্যোগ নেওয়া হল। এতখানি সময়ের মধ্যেও সৈকতে একটিও মানুষকে দেখতে পেলামনা
রিসোর্টে ফিরে খাওয়া পর্ব সেরে বেরিয়ে পড়লাম তাজপুরের বিখ্যাত সৈকতে সূর্যাস্ত দেখার আশায়।আশা ব্যর্থ হলনা।দেখলাম কিভাবে অস্তগামী সূর্যের কিরনে সৈকত হোয়ে ওঠে স্বর্ণাভ। ধীর অলস পায়ে হাঁটতে থাকলাম মোহনার দিকে।


মোহনার উল্টোদিকে মন্দারমনি।তাজপুর সৈকতের এই অংশটিতেই কয়েকটি চা-জলখাবারের দোকান রয়েছে তাই কিছু মানুষের সমাগম হয়েছে।প্রতিটি দোকানেই কয়েকটি করে দড়ির ঝোলা টাঙ্গানো আছে। সন্ধ্যা নামতেই দূরে মন্দারমনির হোটেলের আলো জ্বলে উঠলো একটা দুটো করে। আলোময় ঝলমলে জগত থেকে অনেক দূরে থাকায় শহুরে ক্লান্তি হল এক নিমেষেই উধাও। ফিরতি পথে লক্ষ্য করলাম এক বিশেষ ব্যবস্থা।একটি নোটিশ বোর্ডে লেখা রয়েছে ‘তাজপুর সৈকতে গাড়ি চালানো নিষেধ ,কারন এখানে লাল কাঁকড়ার বাসস্থান রয়েছে’। বেশিরভাগ উন্নয়নমুখী পর্যটনকেন্দ্রের স্থানীয় পরিবেশ ও প্রাণীর বিনাশ ঘটে থাকে।তাজপুরের ক্ষেত্রে স্থানীয় উন্নয়ন পর্ষদ তাই প্রথম থেকেই দুটি বিষয় সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে।সৈকতের ধারে কোন হোটেল ও রাস্তা গড়ে তোলা হয়নি ।  

পরেরদিন সকালে সৈকতে গিয়ে দেখি সমুদ্র সরে গেছে প্রায় ১কিমি দুরে,আর তাই বিস্তৃত বালুতটে চলছে অ্যাডভেংচার স্পোর্টসের ব্যবস্থা ।একটি জীপের পিছনে দড়ির সাথে প্যারাস্যুট যুক্ত করা হচ্ছে যেটা একজন মানুষের দেহে লাগানো থাকছে জীপ সামনে এগোলে মানুষসহ প্যারাস্যুটটি আকাশে উড়ছে ।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ নিজেকে পাখি বলে অনুভব করবে। সত্যিই  অ্যাডভেঞ্চার।বাঙ্গালি নাকি ভীতু জাতি ,কিন্তু এই পাখি হওয়ার বাসনার জন্য যা লম্বা লাইন দেখলাম,তাতে প্রবাদটিকে সত্য বলে মনে হল না । 


ফেরার পথে অনুভব করলাম ধীর উন্নয়ন ও সীমিত পর্যটক সংখ্যা এই সৈকতকে এখনও রেখেছে তরতাজা,আদিম,সুন্দর।তাই ভয়হয় পরের বার এখানে এসে, একি রকম ভাবে পাবো কি তাজপুর সৈকতকে? 



Travelogue by Anindita Das

Monday, December 9, 2013

My Shillong, the queen of Hill Stations


 ---   Debarati Bhattacharjee
        
Yes, it was my home, my abode during the tender years of my life.
 The quiet hill station of Shillong is located in the North Eastern part of India and is the capital of Meghalaya. The British had found here a home away from home and had named the city “Scotland of the East”.
Till 1972, Shillong had been the Head Quarter of undivided Assam. The state of Meghalaya was formed in the year 1972 and Shillong became its capital city. The kings of Tripura had also built their Summer Palaces here. Shillong was fortunate to have hosted noted personalities like Rabindranath Tagore, Swami Vivekananda, Netaji Subhash Chandra Bose and many more.

Jit-Bhumi
Shillong is well connected by NH40 with Guwahati, the nearest railway station. Shillong also has a small airport at Umroi, although it is better to opt for Guwahati airport when visiting the city.
The city of Shillong has a cosmopolitan flavour. Though the majority of population consists of indigenous tribes of Khasi, Jantia and Garo, the city has inhabitants from almost all communities of India who are no less Shillongnites. During the end of the British period and after independence, many government offices were set up in Shillong and people from across India had migrated here for a living and settled here ever since.
The society here is matrilineal. Women run the family and do all sorts of chores which are otherwise done by men elsewhere. Women are much more safe here than the rest of the country.
The winding roads
The essence of Shillong can be felt in its winding roads, valleys of pines, green hills, flowing streams and overall romance. Music lies in the air here. In every nook and corner, a local band can be found singing western music. Shillong is also fondly called as the rock capital of India. One more thing that is in the heart of every person apart from music is football. Every house here boasts of colourful flowers and sparkling window panes. The city is also the seat of premier educational institutions including national institutes.
The winters in Shillong are chilling and the temperature falls down to 2-3 degrees. In the last week of December, the whole city is decked up for Christmas and New Year celebrations. Christmas carols are sung in all places. Santa visits homes and distributes chocolates to the kids. Stars are hung in every verandah and Christmas tree in all sizes sits pretty in the corner of every living room. During winters, the small streams which run down the hillocks are frozen in the morning. In the early morning, the glass panes are covered with mist. The water pipes are frozen and are required to be heated to dissolve the ice. The tap water is icy cold and a huge pan of hot water is always kept on the kitchen heater for use in all the household chores. Of course, now the winters in Shillong are less cold thanks to the menace of deforestation that came with development.
After the winters, springs arrive when small green leaves come up on the barren trees. And winds come with the onset of springs and the weather is so dry during this time that every other person has a red dry cheek. Summers came when the winds subside in the end of March and this is the best time to visit Shillong. In the summers, the temperature remains around 25 degrees and the weather is very comfortable. Rains in Shillong arrive like unforeseen guests. Rains are unpredictable and sometimes last for days and months without stopping. Autumn is brief here and is most celebrated with autumn festivals held everywhere.
Umiam lake
Shillong is just 55 km from Mawsynram, the wettest place on earth. Mawlynnong, the cleanest village in Asia is located 90 km from Shillong. Other places of interest include the Shillong peak, Lady Hydari Park, Ward’s lake, Motphran, Shillong Golf Course etc. Many water falls also add to the beauty of the city viz., Elephant Falls, Beadon-Bishop Falls, Spread Eagle Falls, Sweet Falls, Crinoline Falls etc. Adventure lovers can also find their own interests in various sports.
Shillong occupies a very special place in my heart. I can never detach myself from those flat nosed and red cheeked kids, the old lady in the fish market, the guitarist who plays in the corner of the road, the small stream that used to run down the hill behind my window, the sound of rain on the tin roof, night view of the lit up hills, the drawings I used to make with fingers on the frosted window panes in winter mornings, the first pout of rose in garden, the sunset over Umiam lake, the long walks in the winding roads, the hills where I learned to live and love.
I wind up here and now. The city of Shillong and its surroundings still remain largely unexplored and is a must on your travel list. Come and feel the romance and beauty of the place.
As for me, once a Shillongnite, always a Shillongnite.
KHUBLEI.

Thursday, December 5, 2013

Konya

                             - পৌলমী মুন্সী

রোজ একটু করে জীবন পুড়ে যায়,
রাত নামে নিয়মিত নিয়মে,
আমি আবার মিলিয়ে দেখতে থাকি,
কিভাবে এত অন্ধকার মনে জমে?
অন্ধকার লেগে থাকে পায়ে পায়ে..
যৌবন অন্ধকার নিয়ে আসে..
সমাজ নাকি এগিয়ে গেছে অনেক..
ভগবান সেই শুনেও হাসে.
কন্যা তুই রাত্রে বেরলি কেন?
কন্যা তোর চোখে কেন আগুন জ্বলে?
“মেয়েদের আস্তে কাঁদতে হয়”
পুরুষেরা রোজ চিৎকার করে বলে..
কন্যা তোর শান্ত স্বভাব চাই.
চুল বড় করে রূপ বাড়াতে হবে.
সে রূপ কারও পছন্দ হয়ে গেলে.
খুব সাবধান ! এড়িয়ে যেতে হবে..
কন্যা তুই ভালবাসবি তাকে.
যাকে সমাজ বলবে ঠিক.
সে ভালবাসল কিনা সেটা ‘কপাল’.
মেনে নেওয়া টাই স্বাভাবিক.
রোজ রাত্রে মার-ই না হয় খেলি.
আগেও তো কত অভ্যাস ছিল.
কাঁদতে কাঁদতে রাত নামত সেদিন..
আজ কে না হয় ঘুমও কেড়ে নিল!

Tuesday, December 3, 2013

The Golden trip



Canada এসেছি গত শীতে...এখানে প্রায় ৮ মাস শীত...  আর মাস চারেক গরম...তবে এ গরমের সাথে কলকাতার গরমকে গুলিয়ে ফেলবেন না...তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রীর মধ্যে থাকে...আর বরফের স্তর সরে গিয়ে Canada-র প্রকৃত সৌ্ন্দর্য্য প্রকাশ পায়...আমরা যে শহরে থাকি তার নাম Calgary আর শহরটা Rocky Mountain-র কোল ঘেষে...বেশ কয়েকটা জায়গা ঘোরার পর গরম থাকতে থাকতে শহরের কাছাকাছি দ্রষ্টব্য জায়গাগুলো ঘু্রে দেখার ইচ্ছা আরও বেড়ে গেছিলো...তাই এই মরশুমের শেষ long week-end এ আমরা ৯-১০ জন ঠিক করলাম “Golden”  'লে একটা জায়গা ঘুরে আসবো...এ শহর থেকে ঘন্টা ৫-৬ drive করে জায়গাটায় যেতে হয় ...Rocky Mountain এরই একটা অংশ...চটপট ২টি SUV গাড়ি book  'রে নেওয়া হোল... আর ঠিক করা হোল একটা বাংলোবাড়ি...জামাকাপড়খাবার-দাবার নিয়ে আমরা শনিবার সকাল সকাল রওনা দিলাম Golden এর উদ্দ্যেশ্যে মুখে হাসি আর মনে আনন্দ নিয়ে...


 Dolomite আর limestone দিয়ে তৈরী এই Rocky Mountain...সূর্যের আলোয় কি অপূর্বই না লাগে এই শৈলশিরাকে...রঙীন পাথরের মাঝে মাঝে গাঢ় সবুজ পাইন গাছের সারি...বসন্ত আসন্ন তাই অনেক সবুজ পাতাই বদলে গিয়ে লাল মেরুন হলুদ খইয়েরী হয়ে গেছে...পরিস্কার ঝকঝকে আকাশের গায়ে সাদা মেঘের নানান কারুকাজআকাশের দিকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে রঙীন পাহাড়ের সারি আর এই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে পিছ-ঢালা ছিমছাম রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটল Golden র দিকে...পাহাড়ের পাদদেশে মাঝে মাঝে আবার ছোটো বড়ো Lake ...কি অপূর্ব সেই lake-র জলের রং...ঘন নীলসবুজে নীল...পরিষ্কার স্বচ্ছ কাঁচ-এর মত...এ দেশে pollution কম বলে জল বড় স্বচ্ছ...তাতে আকাশের ছায়া পরে মায়াবি এক রঙের সৃষ্টি হয় যা দেখে সকলেরই চোখ জুড়িয়ে যায়...

এরকমই একটা লেকের ধারে গাড়ি থামিয়ে আমাদের মধ্যান্হ-ভোজন সারলাম বাড়ি থেকে আনা খাবার দিয়ে...তারপর আরও ঘন্টা-খানেক ড্রাইভ করার পর পৌছালাম আমাদের গন্তব্যে...সন্ধ্যে নামার মুখে যখন আমাদের book করা কাঠের বাংলোয় আমরা পৌছালামদেখলাম Golden পাহাড় পড়ন্ত সূর্যের
 আলোয় উজ্জ্বল সোনালি বর্ণে বর্ণময়...আর পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এই ছোটো উপত্যকায় মূলত পাইন গাছের ঘন জঙ্গল...মাঝে মাঝে কিছু ফাঁকা জমিতে ছোটো বড়ো কাঠের তৈরী বাংলো... এরকমই একটা তিনতালা বাংলোয় আমরা ১০জন খুঁটি গাড়লাম ২দিনের নির্ভেজাল ছুটি কাটাবো ব'লে... সন্ধ্যে পেরিয়ে যখন অন্ধকার নেমে গেলো পুরোপুরিআমরা balcony-তে Barbecue করার তোড়জোড় শুরু করলাম...
তারপর নাচ-গানহইহুল্লুর ক'রে আর ঝলসানো মাংস খেয়ে আমাদের সেই রাত্রিটা ভালই কেটে গেলো...



 পরদিন সকালে ঘুমে থেকে উঠে আমরা জলখাবার খেয়ে আশপাশটা ঘুরে দেখতে বেরোলাম... পাইনের জঙ্গল দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কাঠ-চেরাই-এর যন্ত্র, ঘোড়ার আস্তাবল, মেঠো রাস্তার পাশে নানাধরনের গাছ, বনফুল, প্রজাপতি, ফড়িং ইত্যাদি দেখতে পেলাম আর অনুভব করলাম পাহাড়ের নিজস্ব নিস্তব্ধতা...
 কিছুখন পর সবাই  ready হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম wolf center আর buffalo center  দেখতে...নেকড়ে আর মোষের আস্তানা দেখতাআমরা আমাদের আস্তানায় যখন পৌছালাম তখন ঘড়ির কাঁটা ৪টের দিকে ঢলে পড়েছে...

মাছের ঝোল-ভাত খেয়ে পেটপুজা করার পর একটু বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পরলাম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে হাটতে...সুর্যের পড়ন্ত আলোয় Golden পাহাড়ের range তখন আবার সোনালি হয়ে গেছে...আমরা পিচ-ঢালা রাস্তার দুপাশে ফেলে যেতে থাকলাম একের পর এক সবুজ গোচারণ ভূমিগুলোআর তাতে বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরে বেড়ানো গরু বা ঘোড়ার দলকে...বেশ কিছুটা হাঁটার পর পৌঁছে গেলাম Golden নদীর ধারে...সাকোর উপর থেকে দেখলাম খরস্রোতা  Golden নদীকে...উজ্জ্বল সবুজাভ নীল জলের Golden নদীর স্রোতের আওয়াজ ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে পাহাড়ের সুগভীর নিস্তব্ধতাকে... পাহাড়ের সোনালী রঙনদীর সব্জে নীল রঙ আর ঘন পাইনের কালচে সবুজ রঙের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম...প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়ে আপনা থেকেই গেয়ে উঠলাম “ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা প্রভু তোমার পানে”...

   সান্ধ্য-ভ্রমণের রেশ নিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম তখন অন্ধকার জাঁকিয়ে বসেছে চারিদিকে... আর তারি মাঝে তোড়জোড় চলছে campfire-এর আমাদের বাংলোর পাশেই খোলা মাঠে ... হাল্কা ঠান্ডার মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে আমরা তার চারিদিকে আরাম কেদারায় বসে হাসি-গানে-কথায় ভরিয়ে নিলাম সন্ধ্যাটাকে... আর মাঝে মাঝে মাথা তুললেই দেখতে পাচ্ছিলাম রাত্রের ঘন কালো আকাশের গায়ে কোটি কোটি ঝকঝকে তারাদের সাম্রাজ্যকে...শহর থেকে দূরে বলে তারারা যেন আরো পরিস্কার, আরো কাছে নেমে এসে বর্ধন করেছিলো আমাদের সভার আলকসজ্জা ...আন্তরিক ভাবে উপভোগ করা ওই মুহূর্তগুলো যেন তারা হয়েই মনের মাঝে গেঁথে যাচ্ছিলো...
 Campfire-এর পর dinner সেরে আমরা সেদিনের মতো শুয়ে পড়লাম...পরদিন খুব সকাল সকাল উঠে  প্রাতঃভ্রমণে বেরোলাম পাহাড়ি রাস্তা ধ'রে...দেখলাম পাহাড় আর মাটির মাঝে ঘন সাদা কুয়াশার স্তর চাদরের মতো ছড়িয়ে আছে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত অবধি...আর তার ঠিক পিছনে পাহাড় আর আকাশ সোনা রোদ মেখে স্বর্ণাভ হয়ে গেছে...মনে হচ্ছিল স্বর্গ যেন মাটিতে নেমে এসেছে...হাত বাড়ালেই পেয়ে যাব স্বর্গের নাগাল...কুয়াশা ঘেরা মায়াবী পরিবেশ থেকে কুয়াশা ভেজা মেঠো রাস্তা ধরে আমরা ফিরে এলাম আমাদের বাংলোর কাছে...আপেল গাছ ছিল বাংলোর পাশেই...সেখানে আপেল কুরিয়ে, আপেল গাছের সামনে ছবি তুলে আমাদের অভিজ্ঞতার যতোটা পারি Camera বন্দি করে আমরা ঢুকলাম আমাদের বাড়িতে, গোছগাছ ক'রে বেরোতে হবে ব'লে...সকাল সকাল স্নান-খাওয়া সেরে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির পথে...বাংলোর মালিক ও তাঁর স্ত্রী পাশেই থাকেন, অত্যন্ত ভালো ও পরিশ্রমী দম্পতি, বলাবাহুল্য...যেভাবে এই দুটো বড়ো বাংলো আর তার পার্শবর্তী জমি-জায়গা নিজেরাই তত্ত্বাবধানে রেখেছেন তা বিস্মইয়কর, উল্লেখ না ক'রে থাকা যায় না...উনাদের বিদায় জানিয়ে আমরা ২দিনের ছুটি কাটিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম...
পথে আবার সেই রঙীন পাহাড়ের সারি আর তুলতুলে সাদা মেঘে ভরা নীলাকাশ দেখতে দেখতে ছুটলাম আমরা... রাস্তায় দুটো বড়ো বড়ো লেক পড়ল...নাম Moraine Lake  আর Lake Louise... যেমন জলের রং তেমনি তার ব্যাপ্তি...পাহাড়ের গায়ে এরকম বড়ো বড়ো Lake এককথায় Canada-র ঐতিহ্য...ছুটি শেষ ভেবে যতটা মনখারাপ হয়েছিলো, Lake গুলো দেখে মনটা ততটাই ভ'রে গেলো...Lake  আর আকাশের     নীল রং চোখে নিয়ে আমরা ফিরে এলাম আমাদের শহর Calgary-তে...ঘড়িতে তখন রাত ৯টা...


Travelogue by Sreyasi Munshi


Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...